সোমবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৮ | ২৬, অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
 / প্রথম পাতা / রিমু-বিপাশা আর ৭ বছরের অনিরুদ্ধের শেষ অবকাশ
ডেসটিনি ডেস্ক
Published : Wednesday, 14 March, 2018 at 9:40 PM, Count : 168
রিমু-বিপাশা আর ৭ বছরের অনিরুদ্ধের শেষ অবকাশ

রিমু-বিপাশা আর ৭ বছরের অনিরুদ্ধের শেষ অবকাশ

নেপালে সোমবারের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৮ জন বাংলাদেশির শবদেহ এখন কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার সোবহানবাগের রফিক জামান রিমু, তার স্ত্রী সানজিদা হক বিপাশা এবং তাদের সাত বছরের ছেলে অনিরুদ্ধ জামান। রফিক জামান প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সানজিদা হক হাঙ্গার প্রজেক্ট নামে একটি এনজিওতে কাজ করতেন। অনিরুদ্ধ ধানমন্ডির অরণি স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র।
কাজের ব্যস্ততায় পরস্পরকে নিজেদের সময় দিতে পারছিলেন না রফিক জামান এবং সানজিদা হক । তাই বন্ধুদের পরামর্শেই সাত বছরের ছেলে অনিরুদ্ধকে নিয়ে নেপালে বেড়াতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
জামান দম্পতির ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুমন জাহিদ বিবিসিকে বলেন, ব্যস্ততার কারণে স্বামী স্ত্রী নিজেদের সময় দিতে পারছিলেন না। আমরা বন্ধুরাই তাদের চাপ দিচ্ছিলাম কোথাও থেকে কয়েকদিন ঘুরে আসতে।
কেন সেই পরামর্শ তারা দিয়েছিলেন, তা নিয়ে কিছুটা অনুশোচনা হচ্ছে বন্ধু সুমনের। ঢাকায় সোবহানবাগে রফিকের বাড়িতে এবং যশোরে সানজিদার বাড়িতে গতকাল থেকেই গভীর শোকের ছায়া। অনেক সাংবাদিকরা ভিড় করলেও কেউ কথা বলতে চাইছেন না । রফিকের এক মামা গেছেন কাঠমান্ডুতে শবদেহ আনতে।
সুমন জাহিদ জানালেন, তার মাকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। কানাডা প্রবাসী বড় ভাই বুধবার দেশে আসছেন। তিনিই হয়তো আমাকে বলবেন।
সুমন জাহিদ জানালেন, ঢাকা কলেজে পড়ার সময় থেকেই ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছিলেন রফিক জামান। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে জিয়া ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের সেক্রেটারি হন। পরে অবশ্য রাজনীতির তার দূরত্ব তৈরি হয়, এবং ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েন সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে। স্লোগান ৭১ নামে একটি সংগঠনও গড়ে তুলেছিলেন তিনি।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ ছিলেন রফিক। কারো কোনো সমস্যা হলেই সমাধানে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। সে কারনে জুনিয়র সিনিয়র সবাই তাকে বস বলে সম্বোধন করতো। সমাজসেবার প্রতি আগ্রহ থেকেই পেশা হিসাবেও প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজকেই পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন রফিক।
সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সূত্রেই ক্যাম্পাসেই পরিচয় এবং পরে প্রণয় সানজিদা হকের সাথে। অসামান্য মেধাবী এবং ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিল বিপাশা। অনেক কাজ করতো, কিন্তু তা নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করত না।
বছর দুয়েক আগে বিপাশার মা ক্যানসারে মারা যান। বাবা বেঁচে আছেন। যশোরে থাকেন তিনি। অনিরুদ্ধ ছিল সংসারের কেন্দ্রবিন্দু। ভীষণ প্রাণবন্ত এবং একইসাথে অনুভূতিপ্রবণ ছিল বাচ্চাটা। আমরা প্রতি বছর ১৫ ডিসেম্বর রাতে টিএসসিতে ফানুস ওড়াই, বিশাল একটি পতাকা তৈরি করি। সারাক্ষণ এই বাচ্চাটিও আমাদের সাথে থাকত... ওর মুখটা মনে হলেই মন ভেঙে যাচ্ছে।



দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162