বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮ | ৪, আশ্বিন, ১৪২৫
 / প্রথম পাতা / অসময়ে এভাবে চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি : ক্যাপ্টেন আবিদের স্ত্রী
ডেসটিনি রিপোর্ট
Published : Wednesday, 14 March, 2018 at 9:40 PM, Count : 185
অসময়ে এভাবে চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি : ক্যাপ্টেন আবিদের স্ত্রী

অসময়ে এভাবে চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি : ক্যাপ্টেন আবিদের স্ত্রী

বাকরুদ্ধ। জীবনসঙ্গীকে ছেড়ে অসময়ে এভাবে আবিদের চলে যাওয়া অপূরণীয়। কোনো কিছুতে তা আর পূরণ হওয়ার নয়। কিছু বলার ভাষা নেই। শুধু দোয়া করবেন ও যেন জান্নাতবাসী হয়। গতকাল মঙ্গলবার এভাবেই শোকাহত হৃদয় নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন সোমবার দুপুরে নেপালে ইউএস বাংলার বিধ্বস্ত বিমানের ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম টপি (৪০)। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর সোমবারই ৫০ জন নিহতের খবর পাওয়া যায়। তখনো বেঁচে ছিলেন আবিদ। আবিদ সুস্থ হয়ে ফিরবেন- এমন আশাতেই ছিল তার পরিবার। কিন্তু আবিদ আর ফিরলেন না। গতকাল মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যুর সংবাদ আসে। সে খবরে আধার নেমেছে উত্তরা পশ্চিমের ১৩ নং সেক্টরের ১৮ নং সড়কের ৩৮ নং বাসায়। ওই বাসাটিই আবিদের। মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার পর উত্তরার বাসায় আবিদের আত্মীয়-স্বজনদের ভিড়। ছেলে তানজিব বিন সুলতানের গলা জড়িয়ে কাঁদছেন টপি। বাবাহারা সন্তানকে নিয়ে কালো মেঘের ভেলায় অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ভাবনায় ব্যাকুল টপি। বলছিলেন, এমন করে চলে যাওয়া কল্পনাতীত। ও খুব ইনোসেন্ট এবং দক্ষ। ওর মতো মানুষ দুর্ঘটনায় পড়ে যাবে ভাবনাতীত। দোয়া চাই ওপারে ভাল থাকুক আবিদ। আবিদ সুলতানের বাবা এম ও কাশেমও পাইলট ছিলেন। আবিদরা ৫ ভাই। খুরশিদ মাহমুদ, সুলতান মাহমুদ, সেলিম মাহমুদ, আমির মাহমুদ সবাই প্রতিষ্ঠিত। আবিদের ভাড়া বাসায় কথা হয় খুরশিদ মাহমুদের সঙ্গে। তিনি বলেন, একমাত্র সন্তান তানজিব বিন সুলতান মাহি এবার ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা দেবে। অসময়ে ও এতিম হলো। আমরা ভাই হারালাম। ও খুব পারদর্শী, ‘এক্সট্রা অর্ডিনারি।’ এমন দুর্ঘটনা মানতে পারছি না। ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু অনলাইন গণমাধ্যম ভুল বার্তা দিয়েছে। আবিদের নামটাও শুদ্ধ লেখেনি। টিভিতেও ভুল নামে স্ক্রল গেছে। এসব কারণে আমরা আরও বেশি প্রেসারে পড়েছি। ফাইনালি ওর মৃত্যুর খবর সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ওর মৃত্যুর কারণ, দুর্ঘটনার কারণ ইউএস বাংলা, এক্সপার্টরা ভালো বলতে পারবেন। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে পাইলটের কোনো ত্রুটি ছিল না। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় যারা মারা গেছেন, তাদের প্রত্যেকে পরিবারকে যেন ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়, তাদের শোকাহত মুহূর্তগুলোকে যেন তাচ্ছিল্য করা না হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি। এটা নিয়ে যেন টক শোতে নেতিবাচক কোনো কথা না হয়, যেন শুনতে না হয়, প্রধানমন্ত্রী দেখছেন সব। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আমার অনুরোধ, দ্রুত যেন আবিদসহ নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। আবিদদের গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলারর রাণীনগরে। শ্বশুড়বাড়ি নাটোরে।
উল্লেখ্য, কাঠমান্ডুর নরভিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবিদ মারা যান বলে গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে তার উত্তরার বাসায় ইউএস বাংলার পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়। সোমবার দুর্ঘটনার পরপরই বিমানটির কো-পাইলট প্রিথুলা রশিদ ও ক্রু খাজা হোসেন মারা যান। আজ গেলেন প্রধান পাইলট আবিদ সুলতান।

ক্যাপ্টেন আবিদের দাফন বনানীর সামরিক কবরস্থানে
বনানীর সামরিক কবরস্থানে ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানকে দাফন করা হবে। পারিবারিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে তার পরিবার থেকে জানানো হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার নিহত ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের উত্তরার বাসভবনে গেলে তার ভাই খুরশীদ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আমার ভাইকে বনানীর সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। পরিবারের সবার মতামতের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকার এবং ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষের কাছে এখন একটাই দাবি যেন মরদেহ দ্রুত পৌঁছে দেয়া হয়।
তিনি বলেন, কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের যে অডিও পাওয়া গেছে, সেখানে কন্ট্রোল টাওয়ারের কিছু মিস গাইডেন্সের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের পর সঠিক কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে আমরা বুঝতে পেরেছি এ ঘটনায় ক্যাপ্টেনের কোনো দোষ ছিল না। কারণ তার ৭০০ ঘণ্টারও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা এবং এ এয়ারপোর্টে শতাধিক ফ্লাইট ল্যান্ডিংয়ের নজির আছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাইলটকে জোরপূর্বক ডিউটিতে পাঠানোর যে অভিযোগ এসেছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, একজন পাইলট চাইলে টেক অফ করার ঠিক আগ মুহূর্তেও যদি নিজেকে ঠিক মনে না করেন তবে তিনি স্বেচ্ছায় বিমান থেকে নেমে যেতে পারেন। কর্তৃপক্ষের কোনো অধিকার নেই জোরপূর্বক ফ্লাইট পরিচালনা করার। আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য পাচ্ছি, কিন্তু সঠিক তথ্য পেতে আমাদের একটু সময় দিতে হবে। প্রশাসনিক লোকজন কাঠমান্ডুতে রয়েছেন, তারা যাচাই-বাছাই শেষে যে তথ্য পাঠাবেন তা জানানো হবে।





দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162