সোমবার, জুলাই ২৩, ২০১৮ | ৮, শ্রাবণ, ১৪২৫
 / মতামত / বৈশাখী ভাতাবঞ্চিত বেসরকারি শিক্ষকরা
বিন-ই-আমিন
Published : Friday, 30 March, 2018 at 5:34 PM, Count : 648
বৈশাখী ভাতাবঞ্চিত বেসরকারি শিক্ষকরা

বৈশাখী ভাতাবঞ্চিত বেসরকারি শিক্ষকরা

একটি দেশের উন্নয়নে শিক্ষাখাত সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশও ব্যতিক্রম নয়। ব্যতিক্রম শুধু শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মানটুকু প্রদানে। শতকরা ৯৭ ভাগ অবদান রাখা শিক্ষকরা বেসরকারিই রয়ে গেল। স্বাধীনতা পরবর্তী সকল রেজিস্টার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একযোগে জাতীয়করণ করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার কন্যা শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের অগ্রদূত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করেছেন। নিঃসন্দেহে এটা একটি সাহসী পদক্ষেপ। 

রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের যোগ্যতা ও চাকরি গ্রহণের বাস্তবচিত্র আমরা সবাই জানি। আমার লেখার উদ্দেশ্য কাউকে আহত করা নয়। তারপরও কেউ কষ্ট পেলে আমি দুঃখিত। বেসরকারি শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার, তাদের সময়ের দাবি, সম্মানের দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই আমার লেখার উদ্দেশ্য। 

বর্তমান সরকার কমিটির ক্ষমতা খর্ব করে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ প্রদানের যে প্রক্রিয়া চালু করেছেন শিক্ষাক্ষেত্রে তা একটি সাহসী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। প্রকৃত মেধাবীরা এখন শিক্ষকতায় আসবে আগ্রহ ভরে। এক সময় অবসরে গেলে বেসরকারি শিক্ষকদের বিদায়ের দিন জায়নামাজ, টর্চ লাইট, তবজি ইত্যাদি দিয়ে বিদায় জানানো হতো আজীবন সেবা প্রদান করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। ছাত্রছাত্রীদের থেকে দু-এক টাকা চাঁদা নিয়ে সবচেয়ে সম্মানী পেশার সেবার ব্রত নিয়ে শিক্ষকতায় নিজেকে নিয়োজিত করা শিক্ষকদের বিদায় দেয়ার পদ্ধতি বদলেছে। 

আজ অবসরে গেলে একজন বেসরকারি শিক্ষককে খালি হাতে যেতে হয় না। সামান্য হলেও তাদের অবসর ও কল্যাণ তহবিলের টাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে অবসর জীবন কোনোমতে কাটিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু সেই অবসর সুবিধা অনেক শিক্ষকের কপালে জোটে না। অবসরের কমপক্ষে চার বছর পর সুবিধা নিতে গিয়ে অনেকে জীবদ্দশায় তা ভোগ করতে পারেন না। কেউ অন্ধ হয়ে যায়, কেউ হৃদরোগে ভোগে, কেউ মস্তিষ্ক জনিত রোগে ভোগে। অবশেষে না পাওয়ার বেদনায় পরপারে চলে যান। 

আমরা মধ্যম আয়ের সীমা পেরিয়ে এসেছি। এ অবস্থায়ও একজন বেসরকারি শিক্ষক উৎসব পালনের সময় সন্তানদের নিয়ে তা যথাযথভাবে পালন করতে পারে না। সরকারি চাকরিজীবীরা পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা পেয়ে সন্তানদের নিয়ে উৎসব পালনের সময় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানেরা অসহায়ের মতো চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। ২০১৫ সালে বর্তমান সরকার জাতীয় বেতন স্কেলে প্রায় দ্বিগুণ করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন। আন্দোলনের পর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেড়িতে হলেও জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তি হয়। কিন্তু অন্যন্য সকল সুবিধা বঞ্চিত হয়। ২ বছরের বেশি হলো ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতা বেসরকারি শিক্ষকদের ভাগ্যে জুটল না। যদি ৫% প্রবৃদ্ধি বেসরকারি শিক্ষকদের না দেয়, তাহলে আজীবন ২০১৫ সনের বেতন স্কেলেই থাকতে হবে একজন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীকে। এটা কি শিক্ষকদের সাথে প্রতারণা নয়? বিএড পাস করেও সরকারি একজন কেরানীর সমান সুবিধা পায় না একজন শিক্ষক। আমরা কি এতই অবহেলিত? সরকারি কোষাগার থেকে বেতন নিয়ে শুধু বেসরকারি শিক্ষকরাই অধিকারবঞ্চিত। অথচ সরকারি সকল অনুষ্ঠান বেসরকারি শিক্ষকদের অংশগ্রহণ ছাড়া সম্পন্ন হয় না। 

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসন্ন পহেলা বৈশাখের উৎসবটি পালনের নির্দেশনা আসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে। স্কুলে স্কুলে আমরা পালন করি মনে লালিত কষ্ট নিয়ে। কিন্তু এ কষ্ট আর কতকাল? প্রধানমন্ত্রী আমাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে বেসরকারি শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার বৈশাখী ভাতা ও উৎসব ভাতার সাথে সময়ের দাবি জাতীয়করণ করে তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু রক্ষা করবেন, এ প্রত্যাশা সকল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162