সোমবার, জুলাই ২৩, ২০১৮ | ৮, শ্রাবণ, ১৪২৫
 / মতামত / বেকারত্বের অভিশাপে যুবসমাজ
কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে
ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Saturday, 31 March, 2018 at 4:48 PM, Count : 371
বেকারত্বের অভিশাপে যুবসমাজ

বেকারত্বের অভিশাপে যুবসমাজ

গত মঙ্গলবার প্রকাশিত পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ শ্রম জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে কর্মক্ষম আছেন ১০ কোটি ৯১ লাখ। এদের মধ্যে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৩ লাখ মানুষ চাকরি পেয়েছে। একই সময়ে বিদেশে চাকরি হয়েছে আরও ১০ লাখের। এর বাইরে ১৪ লাখ মানুষ আগে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করলেও এই সময়ের মধ্যে মজুরির আওতায় এসেছে। সব মিলিয়ে ওই অর্থবছরের মোট ৩৭ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি। অথচ বিভিন্ন সময়ে সাড়ে চার কোটিরও বেশি মানুষ বেকার বলে সামনে এসেছে। সুতরাং সার্বিক বিবেচনায় প্রশ্ন হতে পারে, বেকারত্বের সংখ্যা নিয়ে এই লুকোচুরি কেন? গত বছরও আইএলওর একটি সংজ্ঞা অনুসরণ করে বিবিএস তাদের জরিপে বেকারের সংখ্যা দেখিয়েছিল প্রায় সাড়ে ছাব্বিশ লাখ।

জনবহুল দেশ বাংলাদেশ। এদেশের কর্মক্ষম বিপুল মানুষকে বেকারত্বের অভিশাপ বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয়, এ তথ্যও মিথ্যে নয়। মাঝে মধ্যে বেকারত্ব নিয়ে গণমাধমে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সরকারি-বেসরকারি সংস্থার নানা জরিপে বেকারত্বের সংখ্যাধিক্যের বিষয়টিও স্পষ্ট। এ সত্ত্বেও বেকারত্বের হার নিয়ে ধন্ধে পড়তে হয় মূলত সরকারি এবং বেসরকারি জরিপের মধ্যকার বিপুল ব্যবধানের কারণে। বেকারত্ব একটি চলমান সমস্যা হলেও সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপে দাবি করা হয়েছে, দেশে বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখেরও কম। এক বছর আগে, ২০১৭ সালের মার্চ মাসে বিশ্বব্যাংক যুব সমাজের বেকারত্ব নিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, বাংলাদেশের যুব সমাজের ৯ দশমিক এক শতাংশ বেকার। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই হারে বেকার আছে। তা ছাড়া বিশেষজ্ঞরাও যেখানে দেশে বেকারত্বের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন, সেখানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর আড়াই শতাংশেরও কম মানুষ কর্মসংস্থানের বাইরে, বিবিএসের এ তথ্য অস্বাভাবিক বলে আলোচিত হচ্ছে। কর্মক্ষম হয়েও যারা কর্মে যুক্ত নয়, তাদের বেকার না দেখানো কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।

তথ্য মতে, ২০১৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বাংলাদেশের বেকারত্ব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সরকারের শীর্ষমহল ও শ্রম-শিল্প-কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্টদের গভীরভাবে ভাবার পরামর্শ দিয়েছিল। সংস্থাটি সে সময় দাবি করেছিল, বিনিয়োগ পরিস্থিতি মন্দা হওয়ার কারণে নতুন শিল্প-কারখানা তৈরি হচ্ছে না। তাছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে শিল্প-কারখানা গড়ে না উঠলে কাক্সিক্ষত কর্মসংস্থান তৈরি না হয়ে বেকারের বোঝা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। দেশে কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশেরই জোগানদাতা বেসরকারি খাত, ফলে বিনিয়োগ না বাড়ায় এ খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না বলেই সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ ছিল। এসব বিবেচনায় বিবিএসের সাম্প্রতিক জরিপে বেকারের হার কমে আসার বিষয়টি বিশেষজ্ঞ মহলে নানা কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

অনস্বীকার্য যে, বেকারত্ব কমানো দেশের সার্বিক কল্যাণের স্বার্থেই জরুরি। মানুষ বেকার থাকলে পরিসংখ্যানে সেটা কম দেখালে লাভের বদলে ক্ষতি হওয়ারই আশঙ্কা থাকে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে বেকারের সংখ্যা কম হলেও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির একটি চাকরির বিজ্ঞাপনের বিপরীতে যে হারে উচ্চশিক্ষিতরাও আবেদন করেন, তাতে স্বভাবতই এ দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সরকারের শীর্ষ মহলের উচিত এসব বিষয় খতিয়ে দেখা। কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ার পেছনের কারণগুলো দূর করা সম্ভব হলে কম বেকারত্ব দেখানোর জন্য আইএলওর সংজ্ঞার কাছে যেতে হবে না, সবাই খালি চোখেই পরিস্থিতি বিচার করতে পারবে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের উচিত দ্রুত বিষয়টি উপলব্ধি করা।

সর্বোপরি বলতে চাই, শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত বেকারের চাপ যে দেশে বাড়ছে, তা অস্বীকার করা যাবে না। ফলে বেকারদের কর্মসংস্থান নিয়ে রাষ্ট্রকে বেশি করে ভাবতে হবে। দেশের কোটি কোটি বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অগ্রগতির জন্যও কর্মসংস্থানের বিকল্প নেই। ভুলে গেলে চলবে না যে, কর্মক্ষম মানুষ কর্ম না পেলে সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। তাই রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিই হতে পারে উত্তম পন্থা।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162