সোমবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৮ | ২৬, অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
 / শেয়ার বাজার ও বাণিজ্য / বাংলাদেশি পোশাকের বড় বাজার জার্মানি
নানা অর্জনের পরও সমস্যা পিছু ছাড়ছে না
মাসুদ শায়ান; ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Friday, 6 April, 2018 at 9:04 PM, Update: 06.04.2018 9:13:39 PM, Count : 504
বাংলাদেশি পোশাকের বড় বাজার জার্মানি

বাংলাদেশি পোশাকের বড় বাজার জার্মানি

বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের সুনাম বিশ্ব জুড়ে। তৈরি পোশাক শিল্পে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড এখন বিশ্বখ্যাত।  বাংলাদেশি তৈরি পোশাক খাতের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও অগ্রগতি থেমে নেই। প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তৈরি পোশাকের বাজারের ব্যাপ্তি বাড়ছেই। বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী ছিলেন জার্মানি হতে পারে বাংলাদেশের আরেক গন্তব্য। তারা অনুমান করছিলেন, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে আবির্ভূত হবে জার্মানি। এখন তা সত্য হতে চলেছে। 


এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি)র তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের পর যুক্তরাজ্যে ২৭০ কোটি, স্পেনে ১৬৪ কোটি, ফ্রান্সে ১৩০ কোটি, ইতালিতে ১০৭ কোটি, কানাডায় ৭৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে জার্মানিতে ২ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৩ শতাংশ, যুক্তরাজ্য ১৭ শতাংশ, স্পেনে ২৪ শতাংশ, ফ্রান্সে ৫ শতাংশ, ইতালিতে ১১ শতাংশ এবং কানাডায় ৯ শতাংশ রফতানি আয় বেড়েছে। 

সংশ্লিষ্ট তথ্যে দেখা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি পণ্য রফতানির বড় বাজার। সম্প্রতি সেই স্থান ছিনিয়ে নিয়েছে ইউরোপের জার্মানি। তারই সুবাদে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত এই দেশটি বর্তমানে বাংলাদেশের পণ্য রফতানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম আট মাস অর্থাৎ জুলাই-ফেব্রুয়ারি মাসে জার্মানিতে ৩৯২ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। আর যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়েছে ৩৯০ কোটি ডলারের পণ্য। তার মানে চলতি অর্থবছরের আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে জার্মানিতে ২ কোটি ডলার বা ১৬৪ কোটি টাকার বেশি পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। যদিও গত অর্থবছর শেষেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রই এগিয়ে ছিল। গত বছর সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৫৮৪ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছিল বাংলাদেশ। তখন জার্মানিতে রফতানি হয়েছিল ৫৪৭ কোটি ডলারের পণ্য। তবে চলতি অর্থবছরের আট মাস শেষে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে যায় জার্মানি। 

রফতানি পণ্য তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মূলত তৈরি পোশাক রফতানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জার্মানি এগিয়ে গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাস শেষে দেশটিতে ৩৭০ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা। আর যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪৮ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছে। অবশ্য গত অর্থবছর শেষেও যুক্তরাষ্ট্রের পেছনেই পড়ে ছিল জার্মানি। তখন যুক্তরাষ্ট্রে ৫২০ কোটি ও জার্মানিতে ৫১৩ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। 

এই বিষয়ে বিকেএমইএর নেতারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত ওভেন পোশাকনির্ভর বাজার। অন্যদিকে জার্মানিতে কয়েক বছর ধরে নিট ও ওভেন পোশাক রফতানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ফলে আমরা অনুমান করছিলাম, জার্মানি যুক্তরাষ্ট্রকে একসময় না একসময় ছাড়িয়ে যাবে। সেটি হয়েছে এবং প্রবণতাটি আগামী কয়েক বছর থাকবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, রানা প্লাজায় ধস ও তাজরীন ফ্যাশনস দুর্ঘটনার পর বায়ারদের জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সসহ বিভিন্ন বায়ারদের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বাংলাদেশে গত চার বছরে প্রায় ১ হাজার ২০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়ার উপক্রম আরও অনেক কারখানা। গত বছর পোশাক শিল্পের রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি কমেছে রেকর্ড পরিমাণে। এই প্রবৃদ্ধি গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। এখন জার্মানী নতুন সম্ভাবনা হয়ে দেখা দিয়েছে। আগামীতেও আমাদের অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক এখন সারা বিশ্বে পরিচিত। তাজরীন ও রানা প্লাজা ধসের পরে নেতিবাচক অবস্থা কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্য আগামীতে দেশের রফতানি বাণিজ্যে আরো বেশি অবদান রাখবে।

বাংলাদেশি পোশাকের বড় বাজার জার্মানি

বাংলাদেশি পোশাকের বড় বাজার জার্মানি

ইউরোপীয় কমিশন ট্রেড হেল্প ডেস্কের তথ্যানুযায়ী, গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশ থেকে ৬২ হাজার ৭৪৮ কোটি ইউরোর পণ্য আমদানি করেছে জার্মানি। আর ইইউর বাইরের দেশগুলো থেকে আমদানি করেছে ৩৫ হাজার ৭২ কোটি ইউরোর পণ্য। এর মধ্যে সর্বোচ্চ চীন থেকে সাত হাজার ২৩৬ কোটি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চার হাজার ৫৯৪ কোটি, সুইজারল্যান্ড থেকে চার হাজার ২৯৭ কোটি, রাশিয়া থেকে দুই হাজার ৮৫৮ কোটি, জাপান থেকে এক হাজার ৬০৩ কোটি, তুরস্ক থেকে এক হাজার ৩৮৮ কোটি ইউরোর পণ্য রফতানি হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয়েছে ৩৭৮ কোটি ইউরোর পণ্য। গত বছর জার্মানি যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ ১৭তম অবস্থানে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৩৬৩ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল জার্মানি।


অর্জনের পর সমস্যাও পিছু ছাড়ছে না 
রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনের দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাত নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছে। তবে সব বাধাবিপত্তি পেরিয়ে বাংলাদেশের এই পোশাক শিল্প এখন সারা বিশ্বে রোল মডেল। সম্প্রতি ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল সারা বিশ্বে যে দশটি সেরা ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’ নির্বাচন করেছে তার সাতটিরই অবস্থান বাংলাদেশে। এছাড়া বাংলাদেশের আরো ৬৭টি ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’ রয়েছে উৎপাদনে। আরো ২৮০টি কারখানা বর্তমানে ইউজিবিসি কর্তৃক সার্টিফিকেশনের অপেক্ষায় রয়েছে। এত অর্জনের পরেও তৈরি পোশাক খাতে নানাবিধ সমস্যা এখনো পিছু ছাড়ছে না-এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৫ হাজারের বেশি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি রয়েছে। ৯০ দশকে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে এই শিল্প পায় নতুন মাত্রা। বর্তমানে এই শিল্পে মোট শ্রমিকের ৮০ ভাগ নারী। শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামে শ্রমিকদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ঢাকার মিরপুরে বিজিএমইএর আরো একটি হাসপাতাল নির্মাণাধীন। পোশাক শিল্পের রফতানি আয়ের ০.০৩ শতাংশ লভ্যাংশ শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে জমা হচ্ছে। যা শ্রমিকদের উন্নয়নে ব্যয় করা হচ্ছে। চলতি বছর এ তহবিলে প্রায় ৮০ কোটি টাকা জমা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পোশাকশিল্প শ্রমিকরা বাংলাদেশের উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কমপ্লায়েন্স খাতে বাংলাদেশে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু, তারপরও তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়া না দেয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়তই অস্থির হয়ে ওঠে তৈরি পোশাক খাত। কখনো বেতন-ভাতা ঠিকমতো পরিশোধ না করা, কখনও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার দেয়া না দেয়া, কখনো কারখানার ওপর মহলের কর্মকর্তাদের মাত্রাতিরিক্ত নজরদারি, কখনও নোটিশ ছাড়াই কারখানা বন্ধ করে দেয়া, কখনো কারণে অকারণে শ্রমিক ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে দেশের তৈরি পোশাক খাতের এই শিল্প অস্থির হয়ে ওঠে। এটিকে কেন্দ্র করে নানা সংবাদ, আলোচনা, সমালোচনা এবং নানা কর্মসূচি এ শিল্পের বিদ্যমান অর্জনকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকরা বাংলাদেশের উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু দেশের কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এই সেক্টর নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিথ্যাচার করছে। তাই হলুদ সাংবাদিকতা আর কিছু মানুষের নিচু মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে বলে মনে করেন এফবিসিসিআইর সভাপতি মোহম্মদ শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনের ঘটনায় নেতিবাচক সংবাদের জেরে আমাদের চরম মূল্য দিতে হয়েছে। এর কারণে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি তো হয়েছেই, কনফিডেন্স আর সুনামও নষ্ট হয়েছে। মহিউদ্দিন আরো বলেন, শত প্রতিকূলতা কাটিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শিল্প উদ্যোক্তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। পোশাক খাতে দক্ষ ও যোগ্য জনবল তৈরিতে খাত উপযোগী কোর্স কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে। এই খাতে যেভাবে প্রয়োজন, সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের তৈরি করতে হবে বলে জানান তিনি। শ্রম প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটি কাজ করছে। তবে এই শিল্পের শ্রমিকদের লিভিং ওয়েজ’র পর্যায়ে আসতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। 

দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গার্মেন্টস শিল্প অবশ্যই একদিন লিভিং ওয়েজের পর্যায় আসবে। এ বিষয়ে ব্র্যান্ড-বায়ার সংগঠনগলোকে তৈরি পোশাকের মূল্য বাড়ানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পের কলকারখানা পরিদর্শন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। শুধু গার্মেন্ট শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় দেখার জন্য ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯-৯০ অর্থবছর এই খাতে আয় হয়েছিল মাত্র ৬২ কোটি ডলার। ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাতে রফতানি আয় ২২৩ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। ২০০৮ সালে বিশ্বমন্দা দেখা দেওয়ার পর তৈরি পোশাক রফতানি কমে যাবে এমনটা অনেকে আশঙ্কা করেছিল। চীন, মেক্সিকো, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশে তৈরি পোশাক রফতানি কমেছিল। ২০১১-১২ অর্থবছরে সর্বমোট পোশাক রফতানির পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৮৯.৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫১৫.৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এর পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৬৫৩.২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।


বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানা এখন শতভাগ কমপ্লায়েন্স। তাজরীন ও রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সব ধরনের নেতিবাচক ধারণা পাল্টে দিয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ এখন নতুন ব্র্যান্ডের নাম। 


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162