বুধবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৮ | ২, কার্তিক, ১৪২৫
 / শেয়ার বাজার ও বাণিজ্য / দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের ভূমিকাই প্রধান
ডিসিসিআই আয়োজিত রমজানে দ্রব্যমূল্য ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন
মাসুদ রানা, ঢাকা,ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Sunday, 15 April, 2018 at 8:23 PM, Update: 15.04.2018 8:34:16 PM, Count : 160
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের ভূমিকাই প্রধান

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের ভূমিকাই প্রধান

আসন্ন রমজান মাসে নৈতিকতার সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সৎ হওয়ার পরামর্শদেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, তিনি বলেন, খাদ্যে ভেজাল তো আপনারা ব্যবসায়ীরাই করে থাকেন। আবার আপনারাই বলে থাকেন ভেজাল ব্যবসায়ীদের ধরেন না কেন। তখন আমরা যদি ধরতে যাই আবার আপনাদের ভেতর থেকেই তাদের পক্ষে তাদের জন্য তদবির হয়।

তিনি বলেন, পুলিশ আজ দৃশ্যমান সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলে তারা সফল। দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ কোন ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম কে প্রশয় দিবে না এবং এ ধরনের পরিস্থিতি কঠোর হস্তে দমন করা হবে। পুলিশকে আপনারাই সুযোগ দেন। গাড়ির ফিটনেস, কাগজ পত্র ঠিক থাকেনা তাহলে পুলিশ তো ধরবেই। অসাধু কার্যক্রমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য জড়িত থাকলে তাকেও কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। 

মাহসড়কে যানজটের বিষয়ে গাড়ির চালকদের কে নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাত্রারিক্তি পণ্য পরিবহনে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, গাড়ি যেভাবে চালান সবকিছু যদি ঠিক না থাকে ১০ টনের জায়গায় ২০ টন ৩০ টন করে নেন এতে রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। ট্রাকে ক্যাপাসিটির বেশি মালা মাল ধারন করেন। তখন দেখা যায় পুলিশ এগুলোকে দার করায় তখন সময়লাগে এবং যানজট সৃষ্টি হয়। অনেক সময়ই দেখা যায় শ্রমিকদের বেতন ভাতা না দিয়েই কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয় তখন শ্রমিকররা পথে আন্দোলন করে যানজট হয়।

আসন্ন রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং বিপনী বিতান সমূহে নিরাপত্তা বিধানে সরকারের পক্ষ থেকে সকল ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে একমত প্রকাশ করে তিনি বলেন, রমজান মাসে আমরা অতিরিক্ত খাদ্য দ্রব্য মজুদ করে থাকি। মূলত অন্যান্য সময় থেকে রমজানে আমাদের বেশি খরচ বেড়ে যায়। আমরা আপ‍্যায়ন প্রিয়, অতিথি আত্মীয়স্বজনদের মেহমানদারী করি  মুসলমানদের একটি সংস্কৃতি, একসাথে সবাই মিলে ইফতার করি বরাবরই আমাদের অতিরিক্ত খাবার সংগ্রহ করতে হয় একই খাদ্য বেশি ক্রয় কারণে মূল্যের ওপর চাপ বৃদ্ধি করা হয়।

১৫ এপ্রিল (রোববার) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)আয়োজিত ‘আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ’ বিষয়ে এলাকাভিত্তিক ও বিশেষায়িত ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের ভূমিকাই প্রধান

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের ভূমিকাই প্রধান



আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি গোলাম রহমান,ডিসিসিআইএর উর্ধতন সহ সভাপতি এফসিএ কামরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিয়া রহমান প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় রমজানের রাজনৈতিক অর্থনীতি, বাজারব্যবস্থা, ভোক্তা অধিকার এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ জিয়া রহমান তিনি বলেন,পৃথিবীর মুসলিম অধ্যুষিত দেশের দিকে তাকালে দেখা যায় সেখানে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমে যায় স্বস্তিতে থাকে ভোক্তারা। কিন্তু বাংলাদেশের এই চিত্রপট পুরোটাই উল্টো, সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে প্রতি বছর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাজার নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দিলেও তা কখনো আশানুরূপভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। ২০০৯ সালে আমরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন পেয়েছি আইনটি চমৎকার। কি নেই আইনে, কিন্তু এর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কতটুকু সফল।

এর আগে স্বাগত বক্তব্যে সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে মে মাসের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গড়ে ১৭.৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০১৮ সালে দেশে গড় মূদ্রাস্ফীতি ৫.৮২ শতাংশ এবং খাদ্যদ্রব্যে গড় মূদ্রাস্ফীতি ৭.১৩ শতাংশ। এ পরিস্থিতে আসন্ন রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্যের দাম আরও বাড়লে আয়-ব্যয়ে সমন্বয় করতে হিমশিম খাবে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

তিনি বলেন, বর্তমানে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো দুই অঙ্কের উচ্চ সুদের হার এবং কোনো কোনো ব্যাংকের ১৬ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশ সুদ হার নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি রয়েছে ঋণ পাওয়ার জটিলতা ও অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ। এসব কিছুর চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে উৎপাদন খরচের সাথে যোগ হয় এবং ভোক্তাকেই তা বহন করতে হয়।সভাপতি আরও বলেন, রমাজানে ট্যারিফ কমিশন ও রাজস্ব বোর্ড এসব নির্দিষ্ট ভোগ্যপণ্যে ট্যারিফ ও শুল্ক হ্রাস করতে পারে। ব্যবসায়ীরা রমজানে পাইকারী পর্যায়ে বিক্রয় করার ক্ষেত্রে অন্যান্য মাসের তুলনায় সুলভমূল্যে বিক্রয় করতে পারবে। তিনি পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও যানজট নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যবসায়ী সমাজ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ও সরকারি সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য এবং আইন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা সম্ভব বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

রোজার মাসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে ব্যবসায়ী নেতারা মুক্ত আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন, আলহাজ আবদুস সালাম, এম এশাকিল চৌধুরি, এনামূল হক পাটোয়ারী, আবুল হাসেম সহ অনেকে তাদের বক্তব্যে একথাই চলে আসে যে, প্রথাগত বাজার সরবরাহ প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত মজুদকরণের মাধ্যমে বাজারে পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং, পরিবহনখাতে চাঁদাবাজি, দুর্বিষহ যানজট এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের কারণে বেড়ে যায় দ্রব্যমূল্য। এই সমস্যাগুলোর সমাধান না করলে রমজান মাসে বরাবরের মতো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162