শনিবার, জুলাই ২১, ২০১৮ | ৬, শ্রাবণ, ১৪২৫
 / জেলার খবর / কর্মীদের প্রশ্ন, কখনো কী ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে?
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা, ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Monday, 16 April, 2018 at 5:20 PM, Update: 16.04.2018 5:23:11 PM, Count : 1270
কর্মীদের প্রশ্ন, কখনো কী ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে?

কর্মীদের প্রশ্ন, কখনো কী ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে?

শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি এই স্লোগানকে সামনে রেখে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুর হক হলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ছাত্রলীগ। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ইতিহাস আর গৌরবের মধ্য দিয়ে কাজ করে আসছে দেশের প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সময়ের পরিবর্তনে ইতিহাস ঐতিহ্যকে হারিয়ে ফেলছে এই ছাত্র সংগঠন। হতাশা আর প্রত্যাশায় ভেঙ্গে যাচ্ছে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের হাজার হাজার নেতা কর্মীর হৃদয়। ২০ বছরে সভাপতি সম্পাদক তিন বার নির্বাচিত হয়েও ব্যর্থ হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে। ভবিষ্যতে হবে কি সে আশায় দিন গুনছে হাজার হাজার নেতা কর্মীরা। ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের পরিচয় পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছে বছরের পর বছর। তবুও তাদের পরিচয় দিতে আগ্রহী নয় অভিবাবক সংগঠনের দায়িত্বশীলরা। এনিয়ে যেনো তাদের কোনো চিন্তা নেই।

জেলা ছাত্রলীগের একাধিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে মবশির আলীকে জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ও চার জনকে যুগ্ম আহবায়ক করে তৎকালিন কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা ছাত্রলীগের অনুমোদন দেন। তিন মাসের আহবায়ক কমিটিতে ২০১২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে জেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম। এরপর মোঃ জাকারিয়াকে সভাপতি, হোসেন ওয়াহিদ সৈকতকে সাধারণ সম্পাদক ও জুবায়ের আহমদ তপুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের একটি কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন এই কমিটি মেনে না নিয়ে বাতিলের জন্য একটি গ্রুপ জেলা সদরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তিন সদস্যের কমিটি দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন ইউনিটে কমিটি অনুমোদন দিলেও ছাত্রলীগের কার্যক্রম গতিশীল হয়নি। এভাবে অনেক ত্যাগী নেতারা পদবী না পেয়ে আজ হারিয়ে গেছে স্রোতের তালে, কেউ প্রবাসে কেউ দেশে ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত ।

আশার আলো বার বার জ্বললেও অদৃশ্য শক্তির কারনে পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে না মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের কমিটি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন এর  নিজ এলাকা মৌলভীবাজার। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জেলা বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হলেও নিজ এলাকায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে হিম শীম খাচ্ছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ভাষা আন্দোলন স্বাধীনতা আন্দোলনে ছাত্রলীগের যে ভূমিকা রয়েছে তা জাতি কোনো দিন ভুলতে পারবেনা। শত বছরের সফলতার গৌরব আর মুক্তিযোদ্ধের চেতনা বুকে লালন করে আসছে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র নেতা সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের বাড়ি এই মৌলভীবাজার জেলায়। যার নেতৃত্বের গুণ দেখে হাজার হাজার ছাত্রজনতা এসেছিল ছাত্রলীগের পতাকাতলে যোগ্য নেতৃত্বের কারনে। আজ এমন ছাত্র নেতার নেতৃত্ব পাচ্ছেনা মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগ।

কয়েক যুগ পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে স্থান পেয়েছে মৌলভীবাজার জেলার কৃতি সন্তান এস এম জাকির হোসাইন। কিন্তু এমন দায়িত্ব পেয়েও নিজ জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারছেন কেনো? এমন প্রশ্ন হাজার হাজার কর্মীর।

গত ১৯ জুলাই ২০১৫ ইং তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম ছয় সদস্য বিশিষ্ট কমিটির নাম প্রকাশ করেন। জেলা সভাপতির দায়িত্বপান আসাদুজ্জামান রনি। সহ-সভাপতির পদে রাজন, সৈয়দা সাবরিনা। সাধারণ সম্পাদকের পদে সাইফুর রহমান রনি। সাংগঠনিক পদে সাগর, অপু ইতি মধ্যে ২জন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ। জেলার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে দুই রনি সংগঠনকে গতিশীল করতে দিনভর কাজ করে যাচ্ছেন ছাত্রদের মধ্যে। তাদের দায়িত্বে থাকা মোট ২০টি ইউনিটের মধ্যে ১৬টি ইউনিট ইতিমধ্যে গঠন করা হয়েছে।  যে ইউনিট গুলো অসম্পূর্ণ রয়েছে তা হলো (১) মৌলভীবাজার সদর উপজেলা, (২) সরকারী কলেজ, (৩) পৌর ও পলিটেকনিক কলেজ।

১৯৯৬ সালে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলেও তা ২০০১ সালে থেকে ২০১৮ ইং সময়ে মোট তিন কমিটি গত হয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গের মুখ দেখেনি জেলা ছাত্রলীগ। সময়ের সাথে সাথে পরিচয়বিহীন  হাজারো রাজপথের কর্মীবাহিনী হারিয়ে গেছে কালের পরিক্রমায়। এদিকে আগামী ৩১ শে মার্চ ও ১ এপ্রিল  ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলেও হয়নি।

বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন এই মৌলভীবাজার জেলার কৃতি সন্তান থাকা অবস্থায় নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করার জন্য এমনটাই আশা করছেন তৃনমূলের নেতা কর্মীরা। এদিকে নতুন কমিটির চেয়ে পূর্ণাঙ্গের ব্যাপারে আগ্রহী কর্মীরা। অনেক ত্যাগী কর্মীরা বলেন, র্দীঘ ১৭ বছর ধরে কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। দুই রনি ভাইয়ের কমিটি একটি সফল কমিটি। তাই কেন্দ্রের উচিৎ এই কমিটিকে পূর্নাঙ্গ করে ছাত্রলীগের সকল কাজ কর্ম আবার ছাত্রদের মধ্য চালিয়ে যাওয়া। মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান রনির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা জেলা ছাত্রলীগের অগুচালো কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে গত ১০শে জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আমি জেলা আ’লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের কাছে তাদের সহযোগিতা চেয়েছি পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য। তাদের সকলের সহযোগিতা পেলে জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা সম্ভব হবে। আমি সভাপতি হিসাবে মনে করি, একটি সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলে এই সংগঠন কি করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে? কেনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে অভ্যন্তরিন কোন্দল থাকার কারনে আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারছিনা। আমাদের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির ভাইয়ের নিজ জেলা মৌলভীবাজার। আমি জেলা কমিটি পূর্নাঙ্গ করতে জুর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, অবিলম্বে মৌলভীবাজারবাসী পূর্ণাঙ্গ কমিটি পাবে। আমাদের স্থানীয় অভিবাকদের কাছে আকুল আবেদন মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বিভিন্ন ইউনিটের কর্মীদের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তারা বলেন, র্দীঘ কয়েক বছর থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় আমরা হতাশায় রয়েছি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হলে, কর্মীরা সারা জীবন কর্মী থাকবে, কোনো দিন নেতা হতে পারবেনা। এস এম জাকির ভাইয়ের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, তার নিজ হস্তক্ষেপে পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা দিয়ে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করেন।  এদিকে ফেসবুকের মাধ্যমে অনেক কর্মী তাদের মনের আকুতি প্রকাশ করে নিজেদের কষ্টকে একটু হালকা করছেন। আর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে তাদের অভিযোগ প্রকাশ করে বলেন, মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আগে চাই, তার পর নতুন কমিটি দেওয়ার চিন্তা করুন। আমরা কারো সাথে কথা বললে গর্ব করে বলি আমরা ছাত্রলীগ করি। কিন্তু যখন আমাদের বলে তুমি ছাত্রলীগের কি? কি তোমার পরিচয় তখন আমাদের মুখ ছোট হয়ে যায়। তখন আর কিছু বলার থাকেনা। জাকির ভাই এত ক্ষমতাশালী হওয়ার পরেও কেনো আমাদের এই দশা। অনেকেই তাদের মূল্যবান সময় তাদের ছাত্ররাজনীতির পিছনে ব্যয় করছেন, কিন্তু বিনিময়ে দলীয় কোনো পরিচয় নেই। যারা সারা দিন রাজপথে খেটে যাচ্ছে, তাদেরকে কি সংগঠনের পরিচয় দেওয়ার ইচ্ছা জাগে না। নাকি ছেলে গুলোকে শুধু ব্যবহার করার চিন্তা। ছাত্রলীগ কর্মী তাজুল আহাদ আরো বলেন, আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন অনেক নেতারা যে  বড় কথা বলেন, দলের প্রোগ্রামে ছেলেপুলে দেখান সেই ছেলেগুলো তো ছাত্রলীগের। তাহলে কেনো আমরা পরিচয়হীন থাকবো? ছেলেদের ব্যবহার করা হবে কিন্তু ছাত্রলীগের প্লেট ওদের গায়ে লাগবে না এ কোনো কথা হতে পারেনা। বর্তমান কমিটির পূর্ণতা চাই, এটা আমাদের এবং সাবেক বর্তমান সকলের প্রাণের দাবী।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162