বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৯, ২০১৮ | ৩, শ্রাবণ, ১৪২৫
 / ফিচার / কম খরচে ঘুরে আসুন হিমালয় কন্যা নেপাল
ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Tuesday, 15 May, 2018 at 8:32 PM, Count : 490
কম খরচে ঘুরে আসুন হিমালয় কন্যা নেপাল

কম খরচে ঘুরে আসুন হিমালয় কন্যা নেপাল

নেপালকে হিমালয় কন্যা বলা হয়। নেপাল শুধু মাত্র হিমালয়ের কারণেই পুরো বিশ্বের পর্যটকদের নিকট ভ্রমণের অন্যতম স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে নেপাল কিন্তু হিমালয়ের নিসর্গ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পর্যটকদের নেপালের ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্থান ও সনাতন ঐতিহ্যও আকর্ষণ করে থাকে। ইয়াক, ইয়েতি, স্তুপ এবং শেরপাদের ল্যাণ্ড নেপাল ট্রেকিংয়ের জন্যেও একেবারে উপযোগী স্থান।

বুধনীলকণ্ঠ
বুধনীলকণ্ঠ হলো একটি একটি ছোট পুকুরের মধ্যে ভাসমান মূর্তি যা লিচ্ছবি সভ্যতা ভাস্কর্যর অদ্ভূত নিদর্শন। কালো পাথরে খোদাই করা এই বিশাল বিঞ্চুমূর্তি দূর্লভ এবং অত্যন্ত মূল্যবান।

বৌদ্ধনাথ স্তুপ

বৌদ্ধনাথ স্তুপ নেপালের শিল্পের একটি ব্যতিক্রম নিদর্শন। এটি কাঠমাণ্ডু থেকে ৭ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। উচ্চতায় বৌদ্ধনাথ স্তুপটি ৩৬ মিটার। এখানে প্রায় ৪৫টি মনাষ্ট্রি রয়েছে।

বালাজু ওয়াটার গার্ডেন

নাগার্জুন হিলসের নিচেই অবস্থিত এই হিলসে দেখতে পাবেন সি ড্রাগনের আকারে খচিত ২২টি ষ্ট্রোন ওয়াটার প্রাউটস। পাশাপাশি ফিসপণ্ড, বুধানীলকণ্ঠর মূর্তি এবং সমাধি এখানকার বাড়তি আকর্ষণ।

পশুপতিনাথ মন্দির

পশুপতিনাথ মন্দিরটি সনাতন ধর্মালম্বিদের ভগবান শিবের সবথেকে পবিত্র মন্দির হিসেবে গণ্য। এই মন্দিরটি কাঠমাণ্ডুর গর্ব। ৪০০ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত এই মন্দিরের সনাতন এবং আধুনিক স্থাপত্যশিল্পের সমন্বয় আপনাকে অবশ্যই মুগ্ধ করবে। এই মন্দিরটি নেপালের বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং ঐত্যিহের প্রতীক।

কাঠমাণ্ডু

রাজধানী কাঠমাণ্ডুই নেপালের সবথেকে বৃহৎ শহর। এই শহরের ইতিহাস প্রায় দুশো বছরের পুরাতন। শহরটি ‘খুকরি’ ছুরির আকৃতির। কাঠমাণ্ডুকে ঘিরেই সারাবছর সচল থাকে নেপালের সমস্ত সাংস্কৃতিক কার্যকলাপ। প্রাণবন্ত এই শহরের আতিথিয়েতায় পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে টিকে রয় অনেকটা সময়।

কাঠমাণ্ডুতে কী দেখবেন
হনুমান ধোকা (দরবার স্কোয়ার)

হনুমান ধোকা বা দরবার স্কোয়ার কাঠমাণ্ডু শহরের সামাজিক এবং ধার্মিক কেন্দ্র। এই শহরে গেলে আপনার দেখা মিলবে ১২শ থেকে ১৮শ শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত মহল, মন্দিরসহ আরো বিবিধ দর্শনীয় স্থাপনা। এছাড়াও তলেজু, টেম্পল, তাল ভৈরব, নওতলে দরবার, করোনশন চক, রাজা প্রতাপ মল্লর মূর্তি, বিগ রেল, বিগ ড্রাম ইত্যাদি স্থান দেখতে পাবেন এখানে।

কাঠমাণ্ডুর বাইরে
পোখরা

সিটি অব এ্যাডভেঞ্চারস বলা হয় পোখরাকে। পোখরা শহরটি রাজধানী কাঠমাণ্ডু থেকে ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। পোখরায় গেলে সেখানে দেখতে পাবেন অন্যন্য লেক এবং উঁচু পর্বতমালা। এই অঞ্চলটি শহুরে কোলাহলের একদমই বাইরে। তাই যারা নিরিবিল শহুরে কোলাহল থেকে মুক্তি নিয়ে নান্দনিক নিসর্গ দর্শনে অভিভূত হতে চান তাদের জন্য পোখরাই হতে পারে নেপালের অন্যতম ভ্রমণাঞ্চল। লেক অঞ্চলেই পোখরার বেশিরভাগ হোটেল আর রেস্তরাঁ অবস্থিত। খুঁজে নিতে তাই একটুও অসুবিধা হবে না আপনার। লেকের জলে বোটিংও করতে পারেন। এছাড়াও পোখরায় দেখতে পাবেন লেকের মধ্যে অবস্থিত বারহী টেম্বল, ছোট পাহাড়ের উপর অবস্থিত ডেভিড ফলস। কাঠমাণ্ডু থেকে প্লেনে অথবা বাসে পৌঁছে যেতে পারেন পোখরা।

লুম্বিনী

লুম্বিনী শহরটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মগুরু গৌতুম বুদ্ধের জন্মস্থান। সে হিসেবে স্থানটি নেপালের সবথেকে পবিত্র স্থান। শহরে ব্যস্ত জীবন থেকে দূরে নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের ঘন জঙ্গলে ঘেরা লুম্বিনী শান্তি এবং নির্জনতার অত্যতম আঁধার। ইচ্ছে করলেই লুম্বিনী চলে যেতে পারেন। প্রথমে কাঠমাণ্ডু থেকে বাসে করে ভৈরাওয়া চলে যান। সেখান থেকে জিপ বা বাসে করে লুম্বিনী যাওয়া যায়। লুম্বিনী গেলে অবশ্যই দেখবেন অশোক পিলার আর মায়াদেবী মন্দিরের মত মনোহরী স্থাপনা।

কোথায় থাকবেন?

ইন্টারন্যাশনাল ষ্টাইলের হোটেল থেকে শুরু করে কম্ফরটেবল লজ এবং গেষ্টহাউজ পেয়ে যাবেন কাঠমাণ্ডুতে। থামেলকে কাঠমাণ্ডুর হোটেল কোয়ার্টার বলা হয়।

খাওয়া-দাওয়া

ট্রাডিশনাল নেপালিজ ফেস্টিভ্যাল ক্যুইজিন, ইটালিয়ান, ভারতীয় চাইনিজ, থাই খাবার খেতে পারেন। তবে নেওয়ারি ক্যুইজিন খাওয়ার চেষ্টা অবশ্যই করবেন।

কেনাকাটা

শপিংয়ের জন্য কাঠমাণ্ডু একেবারে আদর্শ জায়গা। ট্র্যাডিশনাল স্যুভেনির থেকে শুরু করে কন্টেম্পোরারি হ্যাণ্ডিক্রাফটস সব পেয়ে যাবেন কাঠমাণ্ডুতে। খুকরি ছুরি, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র, গ্লাস বিডস, মৈথিলি পেন্টিং, সেণ্ডেড ক্যান্ডেলস এখানকার বিশেষত্ব।

কীভাবে যাবেন?

প্রথমেই প্লেনে করে নেপালের ত্রিভূবন ইণ্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যেতে হবে আপনাকে। ওখান থেকে ট্যাক্সি, গাড়ি বা বাসে করে যেতে পারেন আপনার পছন্দের যেকোনো হোটেলে। কাঠমাণ্ডু থেকে নেপালের অন্যান্য জায়গাও ঘুরে আসতে পারেন।

কখন যাবেন?

নেপালে যাবার সবচেয়ে ভালো সময় হলো অক্টোবর-নভেম্বর অথবা মার্চ-এপ্রিল। এই সময় অল্প গরম থাকে এবং এই অঞ্চলের আকাশও থাকে পরিস্কার। ফলে যেকোনো সাইটস এবং পর্বতমালা অনায়াসে পরিস্কার চোখে দেখা যায়।   


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162