বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮ | ৩, আশ্বিন, ১৪২৫
 / জাতীয় / খুলনার নগর পিতা নৌকার খালেক
খুলনা সিটি নির্বাচন
আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার খালেক বিজয়ী
খুলনা ব্যুরো, ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Tuesday, 15 May, 2018 at 10:01 PM, Update: 15.05.2018 10:04:03 PM, Count : 335
খুলনার নগর পিতা নৌকার খালেক

খুলনার নগর পিতা নৌকার খালেক

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপির মেয়র প্রার্থীসহ দল দুটির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বাকযুদ্ধ ভোটের আগে উত্তাপ ছড়ালেও মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে বহুল আলোচিত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোটগ্রহণের পর পরই শুরু হয় গণনা।

সব কেন্দ্রের ফলাফল বেরিয়েছে তাতে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ছিলেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ফলাফলে দেখা গেছে ২৯৮টি কেন্দ্রের মধ্যে বেশির ভাগ কেন্দ্রেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন খালেক। তবে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্রের ভোট অনিয়মের কারণে স্থগিত হয়েছে। বাকি ২৮৬টি কেন্দ্রের ফল বের হয়।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণের পর কেন্দ্রে কেন্দ্রে শুরু হয় গণনা। ফল আসার পর তা ঘোষণা করছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী। দুটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হওয়ায় ওই দুই কেন্দ্রের ফল সবার আগেই চলে আসে। তাতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রথম থেকেই অনেক এগিয়ে থাকেন।

ভোট শেষের পর বিএনপি প্রার্থী নানা অভিযোগ করলেও নির্বাচন কমিশন, কমিশন সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক সে অভিযোগ আমলে নেননি। তাদের মতে নির্বাচন বিচ্ছিন্ন কিছু অঘটন ছাড়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে।

বিএনপি অভিযোগ করেছে, তাদের এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি মারধরও করা হয়েছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলেছে, পরাজয় অবশ্যম্ভাবী জেনে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপি ‘মিথ্যা অভিযোগ’ করছে।

ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছেন, দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবেই ভোট হয়েছে।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, চমৎকার ও সুন্দর এবং উৎসবমুখর পরিবেশে খুলনায় নির্বাচন হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গণণা শেষে ফলাফল আসা শুরু হয়। ২৮৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে সব কেন্দ্রের ফলাফল জানা গেছে। এসব কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিজয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক।

প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন অংশ নিলেও মূলত নৌকা, আর ধানের শীষের মধ্যে লড়াই হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও এই ভোটকে কেন্দ্র করে সারাদেশেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন হওয়ায় এই নির্বাচন আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।

নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক- নৌকা প্রতীক, বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু- ধানের শীষ প্রতীক, ইসলামী আন্দোলনের মুজ্জাম্মিল হক- হাত পাখা প্রতীক, সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু- কাস্তে প্রতীক ও জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান- লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে সকাল থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রে ভিড় করতে থাকে ভোটাররা। প্রতিটি লাইনে ছিল ভোটারদের দীর্ঘ সারি। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ভোটাররাও সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। এছাড়া নতুন ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

ভোট শুরুর পরই সকালে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের পাইওনিয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক। এ সময় তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বলেন, খুলনাবাসী উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেবে। ভোটাররা যেন তাদের ইচ্ছামতো ভোট দিতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের ব্রিফিং দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

বিএনপির প্রার্থী মঞ্জু ভোট দেন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের রহিমা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এ সময় তিনি ৩০টি কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করে বলেন, সরকারদলীয় সমর্থকদের কারণে প্রতিটি কেন্দ্রেই ভোটাররা শঙ্কায় রয়েছে। ভোট ডাকাতি হলে ফলাফল মেনে নেবেন না বলেও জানান তিনি।

খুলনা সিটিতে এবার মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন আর নারী ভোটার দুই লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। নির্বাচনে ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ড, ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মোট ভোটকেন্দ্র ২৮৯টি। মোট ভোটকক্ষ এক হাজার ৫৬১টি। এর মধ্যে দুটি কেন্দ্রের ১০টি ভোটকক্ষে ভোট নেয়া হয় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে।

নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচ জন ছাড়াও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৫ জনসহ মোট ১৯১ জন প্রার্থী লড়াই করছেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৩ মে থেকে খুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়। তারা থাকবে ১৬ মে পর্যন্ত। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপি, ব্যাটালিয়ন আনসারসহ নিয়মিত বাহিনীর সদস্যরা ভোটের নিরাপত্তায় কাজ করবেন।

প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ২২ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন করে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রতি ওয়ার্ডে পুলিশের মোবাইল ফোর্স এবং প্রতি তিন ওয়ার্ডের জন্য একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাবের একটি করে দল টহল দিচ্ছে। মোতায়েন আছে ১৬ প্লাটুন বিজিবি। ৬০ জন নির্বাহী এবং ১০ জন বিচারিক হাকিম নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হচ্ছে, যেখান থেকে সার্বক্ষণিক নির্বাচনী এলাকার সাথে যোগাযোগ এবং নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

২০১৩ সালে খুলনায় শেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেককে ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন বিএনপির মনিরুজ্জামান মনি।



দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162