সোমবার, অক্টোবর ১৫, ২০১৮ | ৩০, আশ্বিন, ১৪২৫
 / মতামত / মাহে রমজানে করনীয় ও বর্জনীয়
মাহাবুব আলম
Published : Thursday, 17 May, 2018 at 4:43 PM, Update: 17.05.2018 4:51:51 PM, Count : 791
মাহে রমজানে করনীয় ও বর্জনীয়

মাহে রমজানে করনীয় ও বর্জনীয়

ইসলামের পাঁচটি স্থম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম। বছর ঘুরে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অমিয় বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। এ মাস সওয়াব অর্জনের মাস, ক্ষমা পাওয়ার মাস, মহান প্রভুর সান্নিধ্য লাভের মাস। তাই এ মাসের প্রতিটা সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রমজান কুরআন নাযিলের মাস। সুরা বাকারায় আল্লাহ বলেন, রমজান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন। এ কারণেই রসুল (সা.) এ মাসে অধিক পরিমাণ কুরআন তেলাওয়াত করতেন। তাই এ মাসে রোজা রাখার পাশাপাশি বেশি বেশি কুরআন পড়া এবং তারাবীর নামাজে কুরআন মনোযোগ সহ শ্রবণ করা উচিত। হাদিসে রসুল (সা.) বলেন,  নফল ইবাদতের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদত হল কুরআন পড়া। অন্য আরেকটি হাদিসে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কিয়ামতের মাঠে মহান আল্লাহর সামনে রোজা এবং কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে হে প্রভু, আমি তাকে দিনের বেলায় খাবার ও খাহেশ থেকে বিরত রেখেছি, সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কুরআন বলবে, আমি রাত্রিবেলা তাকে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি ( অর্থাৎ রাতে কুরাআন পড়া বা তারাবীতে কুরআন শুনা) সুতরাং তার জন্য আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতঃপর তাদের উভয়ের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। এ সমস্ত ফজিলতের দিকে লক্ষ রেখে আমাদের কুরআন পড়া ও তারাবীর নামাজে কুরআন শুনা খু্বই জরুরি । তারাবীর নামাজ সম্পর্কে বুখারিতে বর্ণনা করা হয়েছে মহানবি (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ইমানের সাথে সওয়াবের আশায় তারাবীর নামাজ পড়বে তার অতীত জীবনের সব পাপ আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন। 


সহীহ ইবনে খুযাইমা গ্রন্থে একটি দীর্ঘ হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে যে,  রমজান মাসে তোমরা চারটি আমল বেশি বেশি করবে। তার মধ্যে দুইটি আমল এমন যা করলে আল্লাহ পাক সন্তুষ্ট হন। সে দু'টি  হল, বেশি বেশি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পড়া  এবং আল্লাহর কাছে এস্তেগফার করা অর্থাৎ ক্ষমা চাওয়া।  আর দুইটি আমল এমন যা আমাদের না করে কোন উপায় নেই। সে দু'টি আমল হল আল্লাহর কাছে জান্নাত চাওয়া এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া। এ চারটি আমল তো সারা বছরই করা অবশ্যক। তবে রমজান মাসে আরো অধিক পরিমাণ করা। এ মাসে আমাদের অধীনস্ত যে সমস্ত কাজের মানুষ রযেছে তাদের কাজ  হালকা করে দেওয়া। যাতে করে তারাও পূর্ণতার সাথে এ মাসে ইবাদত করতে পারে। এ প্রসঙ্গে রসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসে তার চাকর- চাকরাণীদের কাজের বোঝা হালকা করে দিবে, আল্লাহ পাক তাকে মাফ করে দিবেন এবং জাহান্নাম থেকে  মুক্তি দিবেন। এছাড়াও এ মাসে যাদের সমর্থ আছে তাদের  অধিক পরিমাণে  দান সদকা করা। বিশেষ করে যাদের যাকাত ফরজ তাদের পূর্ণতার সাথে যাকাত আদায় করা।যাদের সক্ষমতা আছে তারা নিজে ইফতার করার পাশাপাশি অন্য রোজাদারদের ইফতার করানো। এ বিষয়ে  রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করায় তাকে রোজাদারের সমান সওয়াব দান করা হয়। কিন্তু রোজাদারের সওয়াবের কোন কমতি করা হয় না।

সর্ব অবস্থায় দু'আ করতে থাকা। কারণ এ মাসেই সব চাইতে বেশি গুনাহগার বান্দাকে মহান আল্লাহ তার অসীম দয়ায় ক্ষমা করেন। বিশেষ করে ইফতারের পূর্বে এবং শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে  দু'আ  করা। হাদিসে আছে ইফতারের পূর্বের দু'আ আল্লাহ পাক ফিরিয়ে দেন না। আর এ মাসে অবশ্যই তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা। এটা আমাদের জন্য অনেক সহজ যদি আমরা ইচ্ছা করি। আমরা সকলেই তো শেষ রাতে সেহরি খাবার জন্য ঘুম থেকে উঠি। সেই সময় যদি অজু করি ৪/৬/৮ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ি তাহলে আমাদের জন্য সেটা কতইনা মঙ্গলজনক!  মুসলিম শরীফের এক হাদিসে রসুল (সা.) বলেন,  ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নফল  রাতের (তাহাজ্জুদের) নামাজ। 

এ মহান মাসে যদি আমরা নাজাত পেয়ে আল্লাহর সান্নিধ্য  পেতে চাই তাহলে  ইবাদতের পাশাপাশি সর্ব প্রকার খারাপ গর্হিত কর্ম থেকে আমাদের দুরে থাকতে হবে। তা না হলে আমরা রোজার ফজিলত অর্জন করতে পারবনা। হাদিসে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রোজা হল ঢাল স্বরুপ, যতক্ষণ এই ঢালকে ফেড়ে দেয়া না হয়। অর্থাৎ ঢাল দ্বারা মানুষ যেমন শত্রু থেকে আত্মরক্ষা করে তেমনভাবে রোজা দ্বারাও গোনাহ এবং জাহান্নাম  থেকে আত্মরক্ষা পাওয়া যায়। তবে যদি এ ঢাল চিরে ফেঁড়ে যায় তাহলে আত্মরক্ষা আর সম্ভব নয়। এক সাহাবি প্রশ্ন করল, রোজা আবার কি করে ফেঁড়ে যায়?  রসুল (সা.) বললেন,  মিথ্যা এবং গীবত দ্বারা। অন্য হাদিসে আবু হুরাইরা (রা.) রসুল (সা.) হতে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কর্ম পরিত্যাগ করেনি, তার পানাহার ছেড়ে দেয়াতে আল্লাহর কোন কাজ নেই। এ হাদিসদ্বয় দ্বারা মিথ্যা ও গীবত থেকে দুরে থাকার জন্য  জোর তাকিদ দেওয়া হয়েছে। আর তা না করতে পারলে রোজার পূর্ণতা অর্জিত হবে না।
রোজা সহীহ করার জন্য আরো কিছু কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। যেমন : গায়রে মাহরাম নারী, নাচ- গান ইত্যাদি থেকে  দৃষ্টির হেফাজত করা। প্রত্যেক অপ্রিয় বিষয় যা মুখে বলা বা জবান থেকে বের করা নাজায়েয, সে সব বিষয় শুনা থেকে কানকে হেফাজত করা। মুফাসসিরগণ লেখেন "তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে" আল্লাহর এ হুকুম দ্বারা মানুষের প্রতিটি অঙ্গ- প্রতঙ্গের উপরই রোজা ফরজ করা হয়েছে। সুতরাং মুখের রোজা মিথ্যা, গীবত, ঝগড়া- বিবাদ থেকে দূরে থাকা। কানের রোজা নাজায়েয কথা শ্রবণ থেকে বিরত থাকা। চোখের রোজা হল, সকল প্রকার নাজায়েয বিষয় দেখা থেকে বিরত থাকা।নফসের রোজা হল, লোভ - লালসা ও জৈবিক চাহিদা হতে বেঁচে থাকা।


সর্বোপরি আমরা যদি আল্লাহর এ সমস্ত নিষিদ্ধ কাজ থেকে দূরে থেকে হালাল খাদ্য দিয়ে সেহরি - ইফতার করি এবং এ মাসের প্রতিটা মুহুর্ত ইবাদতের মধ্যে ব্যয় করতে পারি তাহলেই  আসা করা যায় আল্লাহ পাক মাহে রমজানের সফলতা আমাদের দান করবেন।

লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162