এই মাত্র পাওয়া :
শনিবার, জুন ২৩, ২০১৮ | ৯, আষাঢ়, ১৪২৫
 / শেয়ার বাজার ও বাণিজ্য / যারা নির্বোধ ও যাদের দেশপ্রেম নেই, তারাই বলে ভুয়া বাজেট: অর্থমন্ত্রী
ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Friday, 8 June, 2018 at 4:47 PM, Update: 08.06.2018 5:21:54 PM, Count : 220
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

যারা নির্বোধ ও যাদের দেশপ্রেম নেই, তারাই বলে ভুয়া বাজেট। ভুয়া বাজেট বলে কিছু নেই। বাজেট যখন দেই, সেটা ভেবেই দেই। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা যা নির্ধারণ করেছি তা বাস্তবায়নযোগ্য বলে মনে করি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান।


এসময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ঋণ নিয়েছি কিন্তু পরিশোধ করতে পারিনি এমনটা কখনোই হয়নি। আমরা ঋণের টাকা পরিপূর্ণভাবে মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছি। এতে দেশে বিদ্যুতের যোগান বাড়ছে, দেশে রফতানি বাড়ছে, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। প্রস্তাবিত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে ধনী-গরিবের মধ্যে বৈষম্য বাড়েনি। যারা বেশি আয় করেন তারা বেশি কর দেবেন, যারা আয় কম করেন তারা কম কর দেবেন।

বাজেট প্রস্তাবের সারসংক্ষেপে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে পণ্য বা সেবার ক্রয়-বিক্রয় যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পণ্য বা সেবার পরিসরকে আরো বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ভার্চুয়াল বিজনেস নামে একটি সেবার সংজ্ঞা সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে অনলাইনভিত্তিক যেকোনো পণ্য বা সেবার ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তরকে এ সেবার আওতাভুক্ত করা সম্ভব হবে। তাই ভার্চুয়াল বিজনেস সেবার ওপর ৫ শতাংশ হারে মূসক (মূল্য সংযোজন) আরোপ করার প্রস্তাব করছি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট নয়, প্রশ্নের মাধ্যমে অহেতুক সমালোচনা করা করা হচ্ছে। এসব প্রশ্ন যারা করেন, তারা দেশের কোনো উন্নয়ন দেখতে পারেন না। দেশে এখন দারিদ্র্যের হার ২০ শতাংশ। আপনাদের যখন জন্ম হয়েছে কিংবা জন্মের আগে, দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০ শতাংশ। বোঝেন, কোথায় ছিল বাংলাদেশ এবং এখন কোথায় এসেছে?

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই কিছুদিন আগেও দেশে ৩০ শতাংশ মানুষ ছিল গরীব। ৭ বছর আগে সাড়ে ৩০ শতাংশ দরিদ্র ছিল, আজ ২২ দশমিক ৪ শতাংশ। যারা চূড়ান্ত গরীব, তাদের সংখ্যা ছিল ১৮ শতাংশ, এখন ১১ শতাংশ। কোন মুখে আপনারা বলেন, এই দেশে গরীব মারার বাজেট হচ্ছে, ধনীকে তেল দেয়ার বাজেট হচ্ছে? এইসব বলে কি বোঝাতে চাচ্ছেন দেশের উন্নয়ন কিছুই হয়নি।

মুহিত আরও বলেন, ইউ আর নট লুকিং ইনটু দ্য বাজেট। ইউ আর নট অ্যাট অল ক্রিটিসাইজিং দ্য বাজেট। ইউ হ্যাভ সাম সেট কোশ্চেনস, ইউ হ্যাভ কাম উইথ দ্যাট টু প্রেজেন্ট হিয়ার। (আপনারা বাজেট দেখেননি। আপনারা কোনোভাবেই এই বাজেটের সমালোচনা করতে আসেননি এখানে। আপনাদের কিছু গৎবাঁধা প্রশ্ন আছে। সেই প্রশ্ন করতেই আপনারা এখানে এসেছেন)।

এসময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের খাঁড়া নেমে এসেছে মধ্যবিত্তের ওপর। ঘরের আসবাব, পরিধানের কাপড়, শিশুর খাবার- এসব এখন বাড়তি দরে কিনতে হবে। বাঙালি মধ্যবিত্তের মধ্যে অনলাইন শপিং কিছুটা জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে মাত্র। সেখানেও নেমে এসেছে বাজেটের খাঁড়া। যানজটের রাজধানীতে উবার-পাঠাওয়ের মতা কিছু সার্ভিস কিছুটা স্বস্তি এনেছিল। সেখানেও হানা দিয়েছে বাজেট। ঘরের সামান্য কিছু আসবাব সবারই থাকতে হয়। সেক্ষেত্রে নতুন যারা সংসার পাততে যাচ্ছেন কিংবা অন্য কোনো কারণে আসবাবপত্র কিনতে হবে, তাদের জন্য মোটেই সুখবর নেই এবারের বাজেটে। ঘর সাজানোর সব উপকরণেই বেড়েছে ভ্যাট, তা কিনতে যান আর বানাতেই যান। অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে ৫ শতাংশ ভ্যাট ধরেছেন যেকোনো আসবাব কেনার ক্ষেত্রে। আগে সেটা ছিল ৪ শতাংশ। একইসাথে আসবাব তৈরিতেও আগের ৬ শতাংশ ভ্যাট বাড়িয়ে ৭ শতাংশের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সরকারি চাকুরেদের যেসব সুযোগ-সুবিধা বর্তমান সরকার দিয়েছে এর আগে তারা জীবনে তা চোখেও দেখিনি। বেতন ৪০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বল্প সুদে গৃহনির্মাণ ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এরপরও তারা আর কত সুবিধা চান- বলে প্রশ্ন করেন মুহিত।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন। এটি হচ্ছে বাংলাদেশের ৪৭তম বাজেট এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯তম। আর অর্থমন্ত্রী হিসাবে ৮৫ বছর বয়সী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ১২তম বাজেট। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ নামে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এ প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে এ বাজেটের আকার বাড়ছে মাত্র ৬৮ হাজার কোটি টাকা। নির্বাচনী বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ৩ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড উৎস হতে ২ লক্ষ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা (জিডিপির ১১ দশমিক ৭ শতাংশ) সংগ্রহ করা হবে। বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে।

বাজেটোত্তর এ সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, তৌফিক-ই- ইলাহী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব ইউনুসুর রহমান, ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162