রবিবার, জুলাই ২২, ২০১৮ | ৬, শ্রাবণ, ১৪২৫
 / মতামত / প্রযুক্তির মায়াজালে নুতন প্রজন্ম
মুহাম্মদ আনোয়ার শাহাদাত হোসেন
Published : Friday, 22 June, 2018 at 9:00 PM, Update: 22.06.2018 9:08:11 PM, Count : 650
প্রযুক্তির মায়াজালে নুতন প্রজন্ম

প্রযুক্তির মায়াজালে নুতন প্রজন্ম

প্রযুক্তির মায়াজালে আটকা পড়েছে আমাদের নতুন প্রজন্ম। প্রযুক্তি যেন দিন দিন গ্রাস করে নিচ্ছে আমাদের এই প্রজন্মের মেধা ও মনন। এর মধ্য থেকে লেখাপড়া করে প্রকৃত যোগ্যতা র্অজন করা বা ভালো ফলাফল করা এক প্রকার দূরহ ব্যাপার। আর যারা ভালো ফলাফল করছে তারা বাহবা পাওয়ার যোগ্য। আমরা আমাদের ভবষ্যিৎ প্রজন্মকে কতটুকু পরবিশে দিচ্ছি বা যত্ন নিচ্ছি ভালো পড়ালখো বা ফলাফলের ব্যাপারে? একটা সময় ছিল যখন সকাল হলে স্কুল আর স্কুল শেষে সোজা বাড়ি। বিকেলে খেলাধূলা আর সন্ধ্যে হলইে বাড়ি ফিরে হাত-মুখ ধুয়ে পড়তে বসা। পড়ালখোর পাশাপাশি তখন শখের বশে অনেকেই ডাকটকিটি বা বভিন্নি দেশের মুদ্রা সংগ্রহ করত এবং বই পড়ারও অভ্যেস ছিল বেশ। এখন এসব আর দেখা যায় না। নতুন প্রজন্মের কাছে অবসর নেই তারা ব্যস্ত ভিডিও গেম, মোবাইল বা ট্যাবে গেম, ইউটউিব, ফেসবুক, টুইটার, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, স্কাইপ, আইএমও, ফেসটাইম সহ আরো নানান রকম প্রযুক্তিগত নেশায়। 


ওরা এসবে এমনভাবে লিপ্ত হয়ে গেছে যা নিজেরাও বুঝে উঠতে পারনো বা ইচ্ছে করলওে আর ছাড়তে পারেনা; যেমন করে ধূমপান, মদ্যপান বা ড্রাগস আসক্তরা সহজে এসব ছাড়তে পারেনা। ব্যাপারটি ক্ষেত্র বিশেষে আসলে এত ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যা প্রজন্মকে মানসকি বিকারগ্রস্থ করে তুলছে। আজকাল তরুণ প্রজন্ম ফেসবুক নিয়ে এক ধরনের ঘোরের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ফেসবুকে যে নেশা হচ্ছে এটা আর এখন অস্বীকার করার উপায় নেই। এটা রেখে শিক্ষার্থীরা ঠিক  মতো বইও খুলতে পারছে না। দেখা যাচ্ছে সামনে পরীক্ষা, তার এখন খুব পড়ালেখা করা দরকার কিন্তু শত চেষ্টা করেও পড়ায় মনযোগী হওয়া যাচ্ছে না। নিজেকে বলছে ‘আমার বন্ধ করা উচতি, পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া উচতি, আমি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে চাই’ কিন্তু ফোনটা বন্ধ করে দূরে সরিয়ে রাখতে পারছে না। বার-বার নোটিফিকেশান দেখছে বা ইনবক্স চেক করছে। ঘুমের বেলায়ও একই পরস্থিতি! মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে রাত্রের ঘুম ফলে শারীরিক ও মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নতুন প্রজন্ম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা এতই আসক্ত হয়ে পড়ছে যে, ক্রমেই তারা যেন অসামাজিক হয়ে উঠছে। নিজের একটি আলাদা জগৎ সৃষ্টি করে সারাক্ষণ ওখানইে ব্যস্ত থাকছ। যেখানে একজন পরিপূর্ণ বুঝদার মানুষ ফেসবুকে বসে দশ মিনিটের জায়গায় অনায়াসে দুই-তিন ঘন্টা কিংবা তারও বেশি সময় পার করে দিচ্ছেন নিজের অজান্তেই সেখানে তরুণ বয়সের এই প্রজন্মের পক্ষে বিষয়টা অনুধাবন করা যে কত কঠিন, একবার ভেবে দেখুন।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী? পুরোপুরি উপায় বা সমাধান যে আছে সেটা বলা যাবনো; তবে চষ্টো করা যেতে পারে বা একটি সীমাবদ্ধতার মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা হয়তো করা যায়, যাতে করে বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তির মায়াজালে গা ভাসিয়ে দিয়ে নিজের সুন্দর আগামীকে নষ্ট করে না দেয়। স্মার্টফোন বা অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার দূষণীয় নয় তবে কথা হচ্ছে কোন বয়সে এসে এবং কোন প্রয়োজনে আমরা আমাদরে সন্তানদের এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য সুযোগ দিচ্ছি। একজন মাধ্যমকি বিদ্যালয় পড়ুয়ার জন্য স্মার্টফোন কতটুকু জরুরি? যদি বলি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে মুঠোফোনরে প্রয়োজন তাহলে সেখানে স্মার্টফোন কেন, সাধারণ ফোন থাকলইে তো হয়। কিশোর-কিশোরী বা তরুণদের হাতে স্মার্টফোন দিয়ে মা-বাবা যদি নাক ঢেকে ঘুমান তাহলে কিন্তু আপনার সন্তান সহজে প্রযুক্তরি মায়াজালে আটকা পড়বে এবং ধীরে ধীরে আসক্ত হয়ে পড়বে যা থেকে বের করে নিয়ে আসা খুবই কঠনি হয়ে দাঁড়াবে। তাই প্রত্যকে অভিভাবকের উচতি হবে সন্তানদের  স্মার্টফোন না দেয়া বা দিলেও যাতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহার করতে দেয় এবং বিশেষ করে রাতের বেলায় যেন তারা স্মার্টফোন ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে অভিভাবকদের ভূমকিা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি। তরুণরা স্বভাবতই আড্ডাবাজ। আগেকার দিনের মতো এখন আর খেলার মাঠ, স্কুল-কলজে ক্যাম্পাসে, আত্মীয় স্বজন বা বন্ধুদের বাড়িতে যেতে হচ্ছে না আড্ডা দেয়ার জন্য। এখনতো বোতামের টিপেই খুলে যাচ্ছে উন্মুক্ত পৃথিবীর সবকছিু। ফেসবুকে সহজইে এবং অল্প সময়ে জুটে যাচ্ছে হাজারো বন্ধু। আগেকার দিনে অভিভাবকগন জানতেন তাঁর সন্তান কার সাথে মিশছে বা খেলছে এখন কিন্তু তা দেখার বা জানার কোন সুযোগ নেই।


ভার্চুয়াল জগতের এই বন্ধুরা যে সব ভালো তা কিন্তু নয়। তবে তা বুঝার ক্ষমতা বা পরিপক্ষতা আসার আগেই তরুণরা ধাবিত হচ্ছে বিভিন্ন অনৈতিকতার পথে। দুষ্টমতিরা কারো সরলতার সুযোগ নিয়ে তাকে ব্লাকমেইল করছে অথবা অনেক ক্ষেত্রে তারা হত্যার মতো জঘন্যতম অপরাধ করতেও দ্বিধা করছনো! বর্তমান সমাজে একটু চোখ বুলালেই এসব চিত্র দেখা যায়। নবম-দশম কিংবা একাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই এখন এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যা সমাজের জন্য বড় ধরনর অশনি সংকতে! এই ধরনের নৈতিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে একজন শিক্ষার্থী অভিষ্ঠ্য লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে কী পরিমান টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয় গভীর ভাবে ভেবে দেখা দরকার। একদিকে মাদকের আগ্রাসন অন্যদিকে অপসংস্কৃতির বেলাল্যাপনা তার সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার। এসবের সাথে প্রতনিয়িত যুদ্ধ করে আজকের প্রজন্মকে টিকে থাকতে হচ্ছ। সন্তানদেরকে যদি এসবের হাত থেকে আমরা বাঁচাতে চাই তাহলে আমাদরেকেও সর্তক হতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার কিংবা অন্যান্য সকল কাজে রুচিবোধ আর পরিমিতিবোধের পরিচয় দিতে হবে। সন্তানের সামনে বা পাশরে রুমে আপনি বিদেশী সিরিয়াল দেখবেন আর সন্তানকে জোর করে পড়ার টেবিলে বসিয়ে দিয়ে মনে করবেন আপনার সন্তান মনদিয়ে পড়াশোনা করছে? না, তা আপনার ভুল ধারনা। 

পরিবার থেকেই যদি সঠিক অনুশাসন না পায় তাহলে সন্তান বকে যাওয়া কিংবা বিপথগামী হওয়ার সম্ভাবনা অপক্ষোকৃত বেশি। র্বতমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা অন্যান্য বড় বড় শহর গুলোতে খেলাধূলার পরিসর বা মাঠ ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ায় শিশু-কিশোরদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ  প্রযুক্ততিতে অতিমাত্রায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। দেশে এখনও শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট বা তথ্য প্রযুক্তিসেবা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। অবাধ বিচরণের সুযোগে তারা ডার্ক ওয়েবে ঢুকে পড়ছে যা খুবই উদ্বেকজনক! নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে দিব কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যাতে তারা আসক্ত হয়ে না পড়ে বা প্রযুক্তি তাদেরকে ব্যবহার না করে। উন্নত দেশে সন্তানদের ইন্টারনেট ব্যবহারের গতিবিধি লক্ষ্য রাখার জন্য বেশ কছিু অ্যাপস রয়েছে যার সাথে আমরা তেমন পরিচিত নই বা সেরকম সচেতনতা আমাদের নেই।আসুন আমরা নতুন প্রজন্মকে একটি উপযুক্ত পরিবেশ দিই যাতে করে তারা সুন্দর মন ও মনন নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে, তারা যাতে কোন খারাপ নেশায় বিভোর হয়ে তাদের অমূল্য ভবষ্যিৎকে গলা টিপে হত্যা করতে না পারে। আপনি, আমি যদি একটু সচেতন হই, নিজের সন্তানদের প্রতি একটু নজর দিই, তাদরেকে যদি নৈতিক শিক্ষা দেয়ার চেষ্টা করি এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করি তাহলে এরা একদিন সোনার মানুষে পরিণত হবে।

লেখক: কলামিস্ট
সৌদি আরব।


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০০৬-২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162